fbpx
আমরা আছি সবসময় আপনাদের সাথে

নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন চাই

0 600

নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন চাই

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ১৬৬৮ সালে সৃষ্ট অতি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জেলার নাম ‘নোয়াখালী’।

কিন্তু বর্তমানে দেশের বৃহত্তর অন্য অনেক জেলার তুলনায় উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে এই জেলাটি। অথচ এ জেলায় জন্মেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সেনানী বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনসহ অনেক ব্যক্তিত্ব, যাঁরা নিজ কর্মে কীর্তিমান। বৃহত্তর জেলা সিলেট ও বরিশাল এবং রংপুর বিভাগ হলেও এ সুপ্রাচীন জেলাটি এখনও বিভাগ হয়নি।

বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রায় এক কোটি মানুষের প্রাণের দাবি, নোয়াখালী জেলাকে বিভাগ ঘোষণা করা হোক। প্রাচীন সমতট অঞ্চল যা বর্তমানে বৃহত্তর নোয়াখালী ও বৃহত্তর কুমিল্লা নামে পরিচিত, এই বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা ও বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা অর্থাৎ নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এই ছয় জেলা নিয়ে চাই নোয়াখালী বিভাগ গঠন।। এই ছয় জেলা নিয়ে নোয়াখালীকে বিভাগ করা হলে এই বিভাগের আয়তন হবে ১৩,৩০২ বর্গ কি. মি., যাহা আয়তনে সিলেট ও বরিশাল বিভাগের চাইতেও বড় হবে। এই ছয় জেলা নিয়ে ’নোয়াখালী বিভাগ’ গঠিত হলে এ প্রস্তাবিত বিভাগের জনসংখ্যা হবে প্রায় পৌনে দুই কোটি যাহা সিলেট ও বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যার চেয়ে দুই গুনেরও বেশী। আর তাছাড়া ১৮২৯ সালে যখন চট্টগ্রাম বিভাগ গঠিত হয় তখন বর্তমান বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২ কোটির কাছাকাছি। আর এখন শুধু বৃহত্তর নোয়াখালী ও বৃহত্তর কুমিল্লার জনসংখ্যাই হচ্ছে প্রায় পৌনে দুই কোটি। সুতরাং বর্তমানে বৃহত্তর নোয়াখালী ও বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের এ বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে বিভাগীয় সেবা দিতে বৃহত্তর নোয়াখালী ও বৃহত্তর কুমিল্লাকে নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ গঠন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ আদমশুমারী ২০১১ অনুসারে বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যা মাত্র ৮৪ লক্ষ আর অথচ বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লার জনসংখ্যা হচেছ ১ কোটি ৭০ লক্ষ, যাহা বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যার দ্বিগুন। মাত্র চারটি জেলা নিয়ে সিলেটকে যেখানে বিভাগ করা হয়েছে, সেখানে ছয়টি জেলা নিয়ে ‘নোয়াখালী বিভাগ’ গঠন অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত এবং সময়োপযোগী দাবি বটে। সুতরাং জনসংখ্যা ও আয়তন উভয় দিক বিচারে বৃহত্তর নোয়াখালী ও বৃহত্তর কুমিল্লাকে নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ গঠন অত্যন্ত যুক্তিসংগত দাবি। আর তাতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষ খুব সহজে বিভাগীয় পর্যায়ের সেবা পেতে সক্ষম হবে। নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-এই ছয় জেলার মানুষকে বর্তমানে বিভাগীয় কাজকর্ম সারতে বহু কষ্ট এবং সময় ও অর্থ নষ্ট করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক ভোগান্তি সহ্য করে চট্টগ্রামে যেতে হয়, যা নিছক হয়রানি বটে। উল্লিখিত ছয় জেলাকে নিয়ে নোয়াখালীকে বিভাগ করা হলে এ ছয় জেলার দুই কোটি মানুষকে চাকরির পরীক্ষাসহ বিভাগীয় অন্যান্য কাজে বহু কষ্ট করে সময় নষ্ট করে অর্থের অপচয় ঘটিয়ে চট্টগ্রামে যেতে হবে না। আর কুমিল্লা যেহেতু রাজধানী ঢাকা হতে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেহেতু কুমিল্লা বিভাগ হওয়ার কোন যুক্তি নেই।

images

সুতরাং ভৌগলিক অবস্থান এবং উল্লিখিত ছয় জেলার মধ্যখানে বিবেচনায় নোয়াখালী বিভাগ গঠন এখন একান্তই যৌক্তিক দাবি। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে দরকার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি, বেসরকারি তথ্য ও সেবা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া বা মাধ্যম সৃষ্টি করা। এর মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সুষম উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় এবং তৃণমূলের জনগণের ক্ষমতায়ন ঘটে। আর এই অঞ্চলের তৃণমূলের মানুষের ক্ষমতায়নের জন্যই বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের জনগণের বর্তমান সময়ের দাবি হচ্ছে, প্রস্তাবিত নোয়াখালী বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা।

নোয়াখালীকে বিভাগ করা হলে অত্র উপকূলীয় অঞ্চল কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠবে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুত হবে এবং এখানকার জনগনের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে বলে অত্র অঞ্চলের মানুষ মনে করে। প্রকৌশল শিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে অতি প্রাচীন জেলা নোয়াখালীতে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন এবং একটি সরকারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য বিভিন্ন সময়ে এ এলাকার জনগন জোর দাবি জানিয়ে আসছে। নোয়াখালীর বহুলোক প্রবাসে মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ-আমেরিকায় থাকে বিধায় নোয়াখালীতে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নামে এয়ারপোর্ট স্থাপনের জন্য বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী দীর্ঘদিন ধরে দেশের সব সরকারের নিকট দাবি জানিয়ে আসছে। আর ষাটের দশক হতে লক্ষ্মীপুর হতে ফেনী পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের জন্য বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী দাবি জানিয়ে আসছে। অতি পুরাতন জেলা নোয়াখালীতে একটি ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের জন্য জেলাবাসী অনেকদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। নোয়াখালীর চৌমুহনী চৌরাস্তা হতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে হাতিয়া চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হলে অত্র অঞ্চলের সয়াবিন, ভূট্টা, তরমুজ সহ অন্যান্য শস্য সহজে বাজারজাতকরণ সম্ভব হবে এবং অত্র অঞ্চলটি পর্যটন অঞ্চল

হিসেবে গড়ে উঠবে বলে অত্র অঞ্চলের সুধীজন মনে করে।

এই অঞ্চলের কৃষক এবং কৃষির উন্নতির জন্য ও কৃষিক্ষেত্রে দক্ষ জনবল সৃষ্টির এবং গবেষণার জন্য নোয়াখালী কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে নোয়াখালী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিতকরণের জন্য অত্র অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীসহ সুধী সমাজ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। আর তাছাড়া নোয়াখালী কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিও এ ক্যাম্পাসে রয়েছে। একই সাথে নোয়াখালী সুধারাম থানা ও বেগমগঞ্জ থানাধীন অঞ্চলকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত করার এবং নোয়াখালীতে বাংলাদেশ ব্যাংক এর একটি আঞ্চলিক অফিস প্রতিষ্ঠার জন্য এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। পরিশেষে জনসেবার জন্য প্রশাসন এবং জনমুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে ঢাকা থেকে ১৯২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুপ্রাচীন জেলা নোয়াখালীকে উল্লিখিত ছয় জেলা নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ প্রতিষ্ঠা করাসহ উপরোল্লিখিত জনদাবিসমূহ বাস্তবায়ন করার জন্য বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় যোগাযোগ ও রেলপথমন্ত্রী, এবং মাননীয় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সহ সংশিষ্ট সকল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সুত্র

https://www.facebook.com/events/650374395032541/permalink/652846038118710/

- Advertisement -

Leave A Reply

Your email address will not be published.